বায়োমেট্রিক কি বায়োমেট্রিক কত প্রকার জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সুবিধা অসুবিধা ব্যবহার জানুন

আপনি যদি বায়োমেট্রিক কি এর কাজ ও কত প্রকার সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি দেখুন। আর এগুলোর পাশাপাশি আরও এর সুবিধা অসুবিধা ব্যবহার প্রযুক্তি আচরণগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানুন। 

বায়োমেট্রিক কি বায়োমেট্রিক কত প্রকার জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

বায়োমেট্রিকের যে প্রকারভেদ গুলো রয়েছে তার বিস্তারিত আলোচনা এবং এর আচরণগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আজকে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

পোস্ট সুচিপত্রঃ বায়োমেট্রিক কি বায়োমেট্রিক কত প্রকার জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং যা জানবেন

বায়োমেট্রিক কি

বায়োমেট্রিক কি বা বায়োমেট্রিক কাকে বলে? আজকে বায়োমেট্রিক শব্দটির বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করব। এখানে বায়োমেট্রিক শব্দটি গ্রিক শব্দ bios এবং metric শব্দ থেকে এসেছে। সহজ কথায় এটি এমন একটি বায়োলজিক্যাল বা জৈব প্রযুক্তি, এর মাধ্যমে মানুষের শারীরিক গঠনগত বা আচরণগত বৈশিষ্ট্যর উপর ভিত্তি করে কোন ব্যক্তিকে অন্যভাবে সনাক্ত বা পরিমাপ করা সম্ভব। 

আরো পড়ুনঃ মোবাইলে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট চেক করার নিয়ম ও কার্যকরী টিপস জানুন

আইসিটি বা তথ্য প্রযুক্তিতে পাসওয়ার্ড বা পিনের বিকল্প হিসেবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য ও পরিচয় নিশ্চিন্ত করার জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তাই চলুন এই বায়োমেট্রিক পদ্ধতির কাজ এবং আরো বিস্তারিত যে বিষয়গুলো রয়েছে সে বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি। এবং বাস্তব জীবনে এর একটি বাস্তবিক ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করি। 

বায়োমেট্রিক্স এর কাজ কি 

বায়োমেট্রিক্স এর কাজ কি আমরা অনেকেই হয়তো জানি, মূলত বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মূল কাজ হল এনক্রিপটেড ডিজিটাল ডেটার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচয় পরীক্ষা করা এবং এর প্রধান কাজগুলো আরো বিস্তারিতভাবে নিচে উল্লেখ করা হলো,

  • আইডেন্টিফিকেশন মানুষ চিনার ক্ষেত্রেঃ বিশাল ডেটা ডেটাবেজে থাকা হাজার হাজার মানুষের তথ্যের মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট একটি মানুষের বায়োলজিক্যাল ডাটা মিলিয়ে তাকে খুঁজে বের করা হয় এই পদ্ধতিতে। 
  • অথেনটিকেশন (আমি কি সত্যই আমি)ঃ কোন ব্যক্তি নিজেকে যা দাবি করছেন তিনি আসলেই সেই ব্যক্তি কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য বর্তমানে এই বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করা হয়। (যেমন, স্মার্টফোনে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে স্ক্রিন লক খোলা যায়)।
  • প্রবেশ অধিকার নিয়ন্ত্রণেঃ খুব সতর্কতার সাথে কোন ভবন বা ডাটা সেন্টারে অথবা সিস্টেম সুরক্ষিত রাখার জন্য যেন কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারে, এই সুবিধা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার হয়। 
  • হাজিরা ও সময় ব্যবস্থাপনাঃ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা অফিস আদালতের কর্মচারীদের আগমন এবং নির্গমনের জন্য নির্ভুলে রেকর্ড সংরক্ষণ করার জন্য এই বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করা হয়। এখানে কোন প্রকার জালিয়াতের সুযোগ থাকে না। 

জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে, আপনি যদি বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করেন তাহলে প্রচলিত পাসওয়ার্ড চুরি বা হ্যাক হয়ে যেতে পারে কিন্তু এই জৈবিক বৈশিষ্ট্য হ্যাক করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় জালিয়াতি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই থাকে না এবং সাইবার অপরাধ কম হয়। এই উপকারিতাগুলো একক সুবিধা দিয়ে ব্যবহার করার জন্য বায়োমেট্রিক্স অত্যন্ত উপকৃত একটি মাধ্যম। 

বায়োমেটিক্স কত প্রকার জানুন 

মানবধর্মী বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি মূলত দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। তাই আমরা আজকে জানব এই দুইটি প্রধান মাধ্যম কি এবং এই প্রধান মাধ্যম গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত যে, কিভাবে এই উপায় গুলো ব্যবহার করে আমরা আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করি।

ক. শারীরিক বা গঠনগত বৈশিষ্ট্যঃ মানুষের শারীরিক স্থায়ী গঠন সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য গুলোর ভিত্তি করে এই পদ্ধতি গঠিত। 

  • ফিঙ্গারপ্রিন্টঃ মানুষের আঙ্গুলের ছাপ বা রেখার পেটান নিয়ে কাজ করে যা প্রত্যেকটা মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। 
  • ফিস রিকগনিশনঃ প্রত্যেকটা মানুষের আকৃতি চোখের দূরত্ব নাকের অবস্থান ও চেহারার গঠন বিশ্লেষণ করে একটি নির্দিষ্ট আকৃতি থাকে যা অন্য যারা বা মানুষের সাথে মিলার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। 
  • আইরিস ও রেটিনা স্ক্যানঃ আপনার চোখের ভেতরে রিং বা আইরিশের রং প্যাটার্ন এবং চোখের পেছনের রেটিনার রক্তনালীর বিন্যাস পরীক্ষা করে এই বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করা হয় যার প্রত্যেকটা মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা। 
  • হ্যান্ড জিওমেট্রিঃ প্রত্যেকটা মানুষের হাতের তালুর আকার আঙ্গুলের দৈর্ঘ্য ও গুরুত্ব পরিমাপ করে এই পদ্ধতি সম্পন্ন করা হয় এখানে এই পদ্ধতিতে প্রতিটা মানুষের আঙ্গুলের সূক্ষ্ম গণনা এবং নির্ভুল অতিক তৈরি হয়। 
  • এছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষ ব্যবস্থা যাকে ডিএনএ প্রফিলিং বলে। যা মানুষের শরীরের যে কোন টিস্যু রক্ত বা লালা থেকে ডিএনএ ফ্রিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে এটি সবচেয়ে নির্ভুল কিন্তু ধীরগতি সম্পন্ন তাই অনেক সময় প্রয়োজন হয়। বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করার জন্য শারীরিক বা গঠনগত বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে উপরের উপায় গুলো ব্যবহার করেই কাজ সম্পন্ন হয়। 

খ. আচরণগত বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে বায়োমেট্রিক্স: মাস অভ্যাস চর্চা ও চলাফলের আচরণের উপর নির্ভর করে এই পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে যা প্রায় সকল মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। 

  • ভয়েস রিকগনিশনঃ প্রত্যেকটা মানুষের কন্ঠ বা ষড়যন্ত্রের গঠন ও কথা বলার ধরন বিশ্লেষণ করে এই বায়োমেট্রিক্স সম্পন্ন করা হয়। 
  • স্বাক্ষর যাচাই করুনঃ শুধু স্বাক্ষরের উপরই নয় বরং স্বাক্ষর করার সময় কলমের গতি চাপ ও কোন মেপে দেখা হয়। 
  • টাইপিং কি স্ট্রোকঃ কিবোর্ডে টাইপ করার ছন্দ দুটি কি চাপার মধ্যকার সময় এবং ড্রাইভিং স্টাইল মেপে ব্যবহার করে যাচাই করা সম্ভব। 

এই ছিল বায়োমেট্রিক্স কত প্রকার এবং এই প্রকারভেদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে কিভাবে কোন বায়োমেট্রিক্স এর কাজ গুলো সম্পাদিত হয়। এবং এই সিকিউরিটি মূলক বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করার জন্য কি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয় এবং কোন কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এই বিষয়গুলো উপরে উল্লেখ করেছি এছাড়াও আপনাদের সামনে এর আরো কিছু বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করব দেখুন।

আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো পোস্ট দেখুন

বায়োমেট্রিক্স এর আচরণগত বৈশিষ্ট্য কি 

আসরঙ্গত বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের তৈরি অর্জিত অভ্যাস বা চলাফেরা করার উপর ভিত্তি করে একটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতি গুলো অনেক সময় বৈশিষ্ট্যের মত চিরস্থায়ীভাবে অপরিবর্তনশীল নাও হতে পারে তবে এই এগুলোরও প্রধান কিছু উপকারিতা রয়েছে নিচে দেখে নিন। 

এটি মানুষের শিক্ষা স্বভাব ও চর্চার উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেকটা মানুষের সাথে সাথে বা মানুষের শারীরিক অসুস্থতা মানুষিক অবস্থার কারণে আষানগত বৈশিষ্ট্য সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন গলা ভেঙ্গ যাওয়া, ভয়েস পরিবর্তন হওয়া। 

এটি সিস্টেমের পিছনে অদৃশ্য ভাবে কাজ করতে পারে। যেমন, টাইপিং স্টাইল দেখে বোঝা যে আসল ব্যবহার করে কম্পিউটার চালাচ্ছে কিনা। কারণ টাইপিং এর সময় একজন প্রতিদিনের ব্যবহারকারী যেভাবে ব্যবহার করে সে ছাড়া অন্য কেউ এই একই ভাবে ব্যবহার করতে পারবে না কোন না কোন অমিল হয়ে যাবে। এভাবেও শনাক্ত করা হয় আচরণগত দিক থেকে।

বায়োমেট্রিক্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পর্কে জানুন 

বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন এবং বহুল ব্যবহৃত এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতির নাম হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে যুগের পর যুগ বিভিন্ন বিষয়ে মানুষ সিকিউরিটির ব্যবস্থা করে আসছে। বর্তমান মোবাইল ফোন ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন ল্যাব ও পার্সোনাল কোথাও প্রবেশ করার জন্য এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করা হয়। 

বায়োমেট্রিক্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পর্কে জানুন

কাজের প্রক্রিয়াঃ যেকোনো ব্যক্তি যখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সারে আঙ্গুল রাখেন, তখন সেন্ট্রালের অপটিক্যাল বা ক্যাপাসিটিক্যাল স্থান স্ক্যানার আঙ্গুলের খাজ ও উপত্যকা স্ক্যান করে একটি ডিজিটাল ইমেজ তৈরি করে। এরপর এলগরিদম সেই ইমেজের বিশেষণ বিন্যাস করে বাইনারি কডে রূপান্তর করে একটি ডেটাবেজ পাঠায়। সিট এটা ভেজে মিল থাকলে বায়বেটিস ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজ করে ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করে। 

বায়োমেট্রিক্স এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত 

বর্তমান সময়ে বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ তার নিজেদের সিকিউরিটির নিশ্চিত করতে তাদের ব্যবহৃত অনেক জিনিস যেগুলোতে বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করা সম্ভব তা করে চলছে। আপনিও যদি আপনার বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস গুলোতে বায়োমেট্রিকস ব্যবহার করেন তাহলে এই বিষয়গুলো জেনে রাখুন। 

  • স্মার্ট ফোন ও পিসিতে ব্যবহার করতে ডিভাইস নিশ্চিত দিতে এটি ব্যবহৃত হয়, ডিভাইস এনালগ এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বিকাশ নগদ রকেট সুরক্ষিত রাখতে ও বর্তমানে বায়োমেট্রিকস ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • জাতীয় পর্যায়ে ও ই গভন্যাসঃ জাতীয় পরিচয় পত্র শনাক্ত করতে, ই পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ভোটার আইডি কার্ড নিবন্ধনের জন্য বায়োমেটিকস ব্যবহৃত হয়। 
  • আইনশৃঙ্খলায়: বর্তমানে অপরাধী সনাক্ত করার ক্ষেত্রেও অপরাধের স্থান থেকে পাওয়া বিভিন্ন সামগ্রীর সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ ম্যাচিং এর ব্যবস্থা রয়েছে। যা দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সনাক্ত করতে পারে সেই কাঙ্ক্ষিত অপরাধীকে। 
  • ব্যাংকিং ও আর্থিক খাদে: বর্তমানে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাদে নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক্স ব্যবহৃত হয় এটিএম কার্ড ছাড়া কেবল আঙ্গুলের চাপ ও ফেস দিয়ে টাকা তোলার পদ্ধতি রয়েছে, এগুলোকে বলা হয় ফেস দিয়ে টাকা তোলার বায়োমেট্রিক এটিএম। 

আবার আপনি বর্তমান যুগে দেখতে পাবেন যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন নিশ্চিন্ত করতে বায়োমেট্রিক্স ব্যবহৃত হয়। বিমানবন্দরের পাসপোর্ট চেকিং এবং ফাস্ট ট্রাঙ্ক ইমিগ্রেশনের জন্য আইরিস ও ফেস ইজ স্ক্যানার এর ব্যবহার হয়ে আসছে। এগুলো ব্যবহার করে সঠিক শনাক্ত এবং নির্ভুল কাজ করার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় তাই সরকারি এবং বেসরকারি সকল খাদে বর্তমানে এগুলোর ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

বায়োমেট্রিক্স এর সুবিধা ও অসুবিধা জানুন 

বায়োমেট্রিকস এর সম্পর্কে যেই তথ্যগুলো ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। সেই সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ব্যবহারের অনেক সময় এই তথ্যগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন কারণ ব্যবহারকারীর উপর নির্ভর করে অনেক সময় এর সুবিধা ও অসুবিধা দেখা যায়। 

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশে প্রথম এন্ড্রয়েড ফোন কত সালে আসে বিস্তারিত জানুন

সুবিধা সমূহঃ

  • উচ্চ নিরাপত্তা যা শারীরিক বৈশিষ্ট্য অনুসরণ বা চুরির করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। 
  • অনুমতি ছাড়া একজনের যে কোন ডিভাইস অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না কারণ বায়োমেট্রিক্স এই সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
  • সহজে ও দ্রুততার সাথে যেকোনো কিছু মনে রাখা যেমন পাসওয়ার্ড বা সাথে কোন কিছু বহন করা যেমন কার্ড প্রয়োজন নেই শুধু আপনার নিজের শরীর থাকলে যথেষ্ট। 
  • জালিয়াতি করার কোন সম্ভাবনা নেই একেবারেই বন্ধ যার ফলে চুরি বা বিভিন্ন দুইনাম্বারি হওয়ার সম্ভাবনা কম। একজনের জায়গায় অন্য কেউ ভুয়া উপস্থিতি দিতে পারবে না। 

অসুবিধা সমূহঃ

  • উচ্চ ব্যয় বায়োমেট্রিক্স ব্যবহার করলে যে ডিভাইস ও স্ক্যানার ইনস্টল করা হয় সেগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। 
  • শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকে, আঙ্গুল কেটে গেলে চোখ বা ফেসের কোন সমস্যা বা বিকৃতি অসুখ-বিসুখ হলে এটা কাজ নাও করতে পারে। 
  • ডেটা প্রাইভেসি ঝুঁকি সিস্টেম থেকে পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা পরিবর্তন করা যায় কিন্তু বায়োমেট্রিক্স তথ্য লিক হলে তা সারা জীবনের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। 

সুতরাং আপনাদেরকে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে, বায়োমেট্রিক্স এর সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সুবিধা গুলোই খেয়াল করি তবে অসুবিধাগুলোর কথা না ভাবলে কোন এক সময় হয়তো আপনাকে এই সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে পারে। তাই যে কোন সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা করে রাখা আমার মতে শ্রেষ্ঠ উপায়। 

বায়োমেট্রিক এর প্রয়োগ ও গুরুত্ব জানুন 

বায়োমেট্রিক হলো এমন একটি বহুমাত্রিক বিজ্ঞান যেখানে জীব-বিজ্ঞান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি এবং গণিত পাশাপাশি পরিসংখ্যান একসাথে কাজে ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার প্রযুক্তি এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করে জৈব সংক্রান্ত বায়োমেটিক্যাল তথ্য তৈরি করে তা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে এই উপায় কি বায়োমেট্রিক্স বলে। এর প্রয়োগ ও গুরুত্ব দেখুন। 

বায়োমেট্রিক এর প্রয়োগ ও গুরুত্ব জানুন

জিনোম সিকোয়েন্সিং যার কারণে ক্যান্সার বা করোনা ভাইরাসের মত মারাত্মক ভাইরাস বিশ্লেষণ করে এর রূপান্তর বোঝায়। বিভিন্ন নতুন ওষুধ আবিষ্কার করার ক্ষেত্রে এবং কম্পিউটারের সিমুলেশন চালিয়ে মানব দেহের কিভাবে নতুন ওষুধ কাজ করবে তা আগে থেকে পরীক্ষা করে দেখা হয় এবং গবেষণার সময় কোটি কোটি টাকা কম প্রয়োজন হয়। 

আবার জিন থেরাপি ও ব্যক্তিগত চিকিৎসা রয়েছে যেখানে রোগের জিনগত গঠনের উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়। এটা সম্ভব হয় শুধুমাত্র বায়োমেট্রিক্স এর প্রয়োগের জন্য। এছাড়াও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর কিছু প্রয়োগ দেখুন। 

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কি ও এর প্রয়োগ দেখুন

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং হলো চীন প্রকৌশল একটি অত্যাধুনিক যৌগিক প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে কোন জীবের DNA বা জিনোম কে গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন এবং এক জীব থেকে অন্য জীবের রুপান্তর করা সম্ভব হয়। এ প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো (recombinant DNA technology) বা জিন ক্লোনিং। যে জীবের জিন পরিবর্তন করা হয় তাকে জিএমও বা জিনগত পরিবর্তন জীব বলে. উদাহরণস্বরূপ হলো বর্তমান সময়ের উন্নত কৃষি ও সবজি।

  • কৃষি ক্ষেত্রে রোগ ও পোকা প্রতিরোধী ফসল তৈরি করার জন্য এই উপায় ব্যবহৃত হয়। বিটি কটন বা বিটি বেগুন যা ক্ষতিকারক প্রকার আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। 
  • প্রতিকূল পরিবেশে সহনশীল ফসল তৈরি করার জন্য বায়োমেট্রিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রয়োজন হয়। খরা, লবণাক্ত এবং বন্যা সহনশীল ধান ও শস্য উৎপাদন করে বিভিন্ন গবেষণা করার মাধ্যমে।
  • ফসলের পুষ্টি ও মান বৃদ্ধি করে। যেমন, গোল্ডেন রাইস যা বর্তমানে এক উন্নত রাইস। যেখানে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ফসলের মধ্যে ভিটামিন এ যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
  • চিকিৎসা ও ওষুধের ক্ষেত্রেও এর ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে বর্তমানে ব্যাকটেরিয়াল দিন পরিবর্তন করে ডায়াবেটিকস রোগীর জন্য সস্তা ও উন্নতমানের ইনসুলিন তৈরি করা হচ্ছে। 
  • ভ্যাকসিনো হরমোন উৎপাদন ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয় যেমন এর মত ওষুধ এবং গ্রোথ হরমোন তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বায়োমেট্রিক্স জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
  • জিন থেরাপি যা বংশ নৌ ক্রমিক মারাত্মক রোগ থ্যালাসেমিয়া নিরাময়ের জিন পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় ব্যবহৃত হয়। 

দ্রুত বর্ধনশীল এবং বেশি দুধ ও মাংস উৎপাদনকারী গাভী ও হাঁস মুরগির প্রজাতি তৈরিতেও এই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহৃত হয়। পরিবেশ দূষণ করে প্লাস্টিক ও তেলের ধ্বংসকারী বিশেষ ব্যাকটেরিয়া তৈরিতেও এর ব্যবহার হয়ে আসছে। এক কথায় বলতে গেলে বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা বায়োমেট্রিক্স এর ব্যবহারে অনেক কিছু উন্নত করা সম্ভব হয়েছে। 

লেখকের শেষ কথা বায়োমেট্রিক্স ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং 

বায়োমেট্রিক ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে আমরা যা শুনলাম এগুলো অত্যন্ত বাস্তব এবং আমরা বর্তমানে ব্যবহার করে আসছি। বায়োমেট্রিক্স মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত পরিচয় কে সুরক্ষিত করেছে। বায়ন ইনফরমেটিকস বায়োলজিক্যাল বিশাল ডেটা বিশ্লেষণে সহজ করেছে এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রত্যেকটা মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

এর মাধ্যমে খাদ্য ও চিকিৎসা খাতে ব্যাপক পরিবর্তন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে আর এই পরিবর্তনে আসার জন্য আইসিটি এই তিনটি শাখায় আগামী দিনের বিশ্বকে পরিচালনা করতে প্রধান ভূমিকার কাতারে থাকবে। সুতরাং আপনি এখন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট একটি ধারণা পেয়েছেন বলে আশা করা যায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Post Page Ad Right After Title