ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য ও ভূমিকম্প থেকে বাঁচার দোয়া
ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য ও ভূমিকম্প থেকে বাঁচার দোয়া এ ছাড়াও ভূমিকম্পের সময় করণীয় ও সতর্কতামূলক কাজগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।
বর্তমান সময়ে ভূমিকম্পের প্রভাব বেড়েই চলেছে তাই আমাদেরকে ভূমিকম্প হলে কি করা উচিত, এই খবরগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার। চলুন জেনে নিই সেই কার্যকরী উপায়।
পোস্ট সুচিপত্রঃ ভুমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য যা জানা দরকার দেখুন
- ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য পূর্বে চলাকালীন ও পরবর্তী প্রস্তুতি
- ভূমিকম্প চলাকালীন করণীয় উপায় সমূহ
- ভূমিকম্পরত স্থানের উপর ভিত্তি করে করণীয়
- ভূমিকম্প পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন
- ভূমিকম্প থেকে বাঁচার দোয়া আরবি ও বাংলা
- ভূমিকম্পের আগাম বার্তা কিভাবে কাজ করে জানুন
- লেখকদের শেষ মন্তব্য ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য অনুযায়ী
ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য পূর্বে চলাকালীন ও পরবর্তী প্রস্তুতি
ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য যে তথ্যগুলো আপনাদের জানা উচিত। ভূমিকম্প প্রতিটা মানুষের জীবনকে দুরবিক্ষর সম্মুখীন করে। তাই ভূমিকম্প যেমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা কোন পূর্বভাস ছাড়াই হঠাৎ আঘাত আনতে পারে। অনেক সময় বুঝে ওঠার আগেই এর আঘাত হয় তবে কিছু ক্ষেত্রে পূর্ব সর্তকতা অবলম্বন করা সম্ভব হয়।
তবে সতর্কতা ও পূর্ব প্রস্তুতি থাকলে এই ক্ষতিকারক প্রাণহানির ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। আমরা সবাই চাই আমাদের পরিবার পরিজনকে সুরক্ষায় ভূমিকম্পের আগে করনীয় এবং পরে করণীয় বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। নিচের এই পদক্ষেপ গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপনার জীবন বাঁচাতে।
- প্রথমত ভূমিকম্পের পূর্বে প্রস্তুতি বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য সেরা উপায় হল পূর্বে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা। ঘরের ঝুঁকি গুলো চিহ্নিত করে কিছু সাধারণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না।
- আশপাশপত্র সুরক্ষিত রাখার জন্য বাড়ি, আলমারি, বুক সেলফ বা দেয়াল ঘড়ি ভালো করে আমলে শক্ত করে আটকে রাখো যেন কম্পনে গায়ের উপর না পড়ে।
- জরুরি ইমার্জেন্সি কিট রাখার সিদ্ধান্ত নিন। যাতে একটি ব্যাগে তিন দিনের জন্য শুকনা খাবার, খাবার পানি, ফার্স্ট এইডস কিট বা প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স। আলোর জন্য টস লাইট, হুইসেল, পাওয়ার ব্যাংক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গুটিয়ে রাখুন। আপনার কাছে হঠাৎ পাবেন এমন ভাবে।
আপনার ঘরের ভেতর নিরাপদ স্থান চিহ্নিত করুন। যেমন, ডাইনিং টেবিল, খাট, নির্ভরযোগ্য কলম, কেন নিজেকে সেগুলোর সাহায্যে নিরাপদ রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করবেন যখন ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সবসময়ের জন্য প্রস্তুত রাখতে পারেন, কারণ কখন কোন বিপদ আসে সেটা তো বলা যায় না আগে থেকেই। এরপর ভূমিকম্প চলাকালীতে করণীয় বিষয় আছে সেগুলো জানুন।
ভূমিকম্প চলাকালীন করণীয় উপায় সমূহ
শুরু হলে অতিরিক্ত না করে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে আপনি খুব সহজেই এই ভয়াবহতার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন। যে গুলো জেনে রাখলে এই তথ্যগুলোই আপনাকে ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষার জন্য কাজে দিবে। কিছু নির্দিষ্ট টিপস রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আপনি ভূমিকম্প চলাকালীন আপনার নিজেকে, পরিবারকে আত্মীয়-স্বজনকে নিরাপত্তা দিতে পারবেন।
- ভূমিকম্প মনে হলে বা এর সংকেত আসলেই আপনি নিচু হয়ে বসে পড়ুন। ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করুন এবং মেঝেতে হামাগুড়ি দেয়ার মত বসে থাকুন। এতে আপনার আহত বা হারিয়ে পড়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে না।
- পরবর্তী মাথায় রাখবেন যেন ঘাড় ও মাথা নিচু করে ঢেকে রাখা যায়, সব পড়ন্ত বস্তু থেকে সুরক্ষার জন্য, কোন শক্ত কাঠের টেবিল বা খাটের নিচে ঢুকে পড়ুন যদি টেবিল না থাকে। তবে ঘরের ভেতরে দেওয়ালের বা কলমের পাশে গিয়ে দুহাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় চেপে ধরে রাখুন।
এরপর পরিস্থিতি বুঝে আটকে থাকুন ঝাকুনি না থাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। যদিও এই সময়টি খুবই কম হয় তবুও এই সময়ের মধ্যে অনেক সতর্কতা এবং মানবিকভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে আশ্রয়ের নিচে আছেন, টেবিল, দেওয়াল ঘাট, এগুলো সাথে সরে আপনার কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা। এছাড়াও আরো কিছু উপায় দেখে রাখুন যা আপনার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন কিছু পোস্টের তালিকা দেখুন
ভূমিকম্পরত স্থানের উপর ভিত্তি করে করণীয়
আপনি ভূমিকম্পরত অবস্থায় যে অবস্থায় অবস্থান করছেন। সে অবস্থার উপর নির্ভর করেও আপনার পদক্ষেপগুলোর পরিবর্তন হতে পারে। মনে করেন আপনি যদি ঘরে কিংবা বাইরে কিংবা গাড়িতে থাকেন। তাহলে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্নভাবে আপনাকে মোকাবেলা করতে হবে। তাই নিচের পদক্ষেপ গুলো দেখে রাখুন।
- ঘরের ভেতরে থাকলে যা করবেন জানালার কাজ ও লিভ থেকে দূরে থাকুন। বের হওয়ার চেষ্টা না করে ঘরে আশ্রয় নিয়ে সুরক্ষিত থাকার চেষ্টা করুন। ঘরের শক্ত কোন কিছুর সাহায্য নিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করুন।
- ঘরের বাইরে থাকলে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন তাহলে হলো, বড় ও উঁচু ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা ও ফ্লাইওভারের থেকে দূরে থাকা চেষ্টা করুন এক কথায় ফাঁকা জায়গায় অবস্থান নিন।
- গাড়িতে থাকলে নিরাপত্তার জন্য রাস্তার পাশে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি থামিয়ে, ব্রিজের উপর বা নিচে গাড়ি রাখা থেকে বিরত থাকুন এবং গাড়ি থেকে নেমে আলাদা ফাঁকা জায়গায় অবস্থান করেন।
ভূমিকম্প হয় তাহলে উল্লেখ্য এ কাজগুলো করলে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিন্ত মনে করতে পারেন। অনেকে আমরা এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে যায়, ভূমিকম্প হলে কি করা উচিত তা আমরা বুঝতে পারি না। যার জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রেখে সেই পরিস্থিতির মোকাবেলা করা উচিত। আরো কিছু পদক্ষেপ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
ভূমিকম্প পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন
ভূমিকম্প পরবর্তী পদক্ষেপ এর মূল্য মধ্যে প্রধান দেওয়ার পর আসল ঝুঁকি শুরু হয়। সেখানে বিভিন্ন সেকেন্ডের দু'ঘণ্টার তৈরি হয় যেমন, ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট, গ্যাসের লাইন লিপিস্ট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো বা বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ার ভয় থাকে। এগুলো থেকে বাঁচার জন্য নিজের পদক্ষেপণগুলো দেখুন।
আধুনিক নিরাপত্তা ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ সমূহ
- শান্ত থাকুন ও পরিবেশ পরীক্ষা করুন, কম্পন থামার সাথে সাথে দৌড়াদৌড়ি করবেন না। আগে খেয়াল করুন চারপাশে কাচের টুকরা, ইট দেওয়াল অংশগ্রহণ ডসে পড়ছে কিনা।
- শারীরিক আঘাত পরীক্ষা করুন নিজের ও আশপাশের মানুষের কোন আঘাত লেগেছে কিনা বা সকলের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করুন। বড় কোন রক্তপাত বা আঘাত থাকলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাখুন।
- দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন যেমন, গ্যাস সিলিন্ডার, বাল অবিলম্বে বন্ধ করে দিন। বিদ্যুতের প্রধান সুইচ বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
- গ্যাস লাইট, লাইটার ও কোন কিছু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন কারণ সুপ্ত লিখে থেকে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে মুহূর্তের মধ্যেই।
- সিরি ব্যবহার করে ভবন থেকে বের হওয়ার সময় কেবল সিঁড়ি ব্যবহার করুন এই সময় লিফট ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন। কারণ বিদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।
- মাথা রক্ষা করার জন্য হেলমেট বা মোটা বই বালিশ বা শক্ত কিছু মাথায় ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ভাঙা কাচ ও ধ্বংসাবশেষে আঘাত এড়াতে জুতা পরুন বা খালি পায়ে হাঁটা থেকে বিরত থাকুন।
- এবং খোলা মাঠে অবস্থান করার চেষ্টা করুন যেখানে দালান, বৈদ্যুতিক তার ফ্লাইওভার ও বড় গাছপালা নেই এমন ফাঁকা জায়গায়। আটকে পড়া ভূমিধস্য ভবন গুলোতে একা প্রবেশ করবেন না এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- পরোক্ষ কিছু বিষয়ে আমাদের জেনে রাখা উচিত মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত ছোট বড় ঝাঁপনি হতে পারে। যার জন্য উপরের ড্রপ কভার হোল্ড অল নীতি ব্যবহার করুন।
সর্বশেষে বেড়াতে তথ্য অনুসরণ করুন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কান না দিয়ে রেডিও বা সরকারি জরুরী সেবা কেন্দ্রের সংবাদ শুনুন। জরুরী যোগাযোগ ব্যবস্থা পাওয়ার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক তাই অপ্রয়োজনীয় কল না করে কেবল টেক্সট মেসেজ ব্যবহার করে তাদের কাছে নিরাপত্তার কথা জানান। উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করুন। এই উপায় গুলো আপনাকে ভূমিকম্পের পূর্ব প্রস্তুতি ও ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।
ভূমিকম্প থেকে বাঁচার দোয়া আরবি ও বাংলা
ভূমিকম্প থেকে বাঁচার দোয়া আরবি ও বাংলায় যারা যাচ্ছেন তারা নিচের তথ্যগুলো দেখুন। আসলে আমরা যারা ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করি। ইসলাম নির্দিষ্টভাবে শুধু ভুমিকম্প থেকে বাচার জন্য পৃথক কোন কাজ বা দোয়া নেই। তবে পবিত্র হাদিসে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিপদ ও ভূমিকম্প স্তূপে চাপা পড়া থেকে নিজেকে আত্মরক্ষা করার জন্য যে দোয়া ও জিকির উল্লেখিত তা উপস্থাপন করলাম।
আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرَقِ وَالْهَرَمِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হাদমি, ওয়া আউজু বিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল গ্যারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারাম।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কোনো কিছু ধসে মাথার ওপর পড়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই, ওপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই এবং পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে ও বার্ধক্যের জরাগ্রস্ততা থেকে আশ্রয় চাই।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৫২)
ভূগর্ভস্থ দুর্যোগ ও ভূমিধস থেকে সুরক্ষার প্রতিদিনের দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহ তাআলার কাছে সব দিক থেকে সুরক্ষার জন্য এই দোয়াটি পাঠ করতেন:
আরবি: اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহ ফাজনি মিং বাইনি ইয়াদাইয়া, ওয়া মিন খালফি, ওয়া আন ইয়ামিনি, ওয়া আন শিমালি, ওয়া মিন ফাওকি; ওয়া আউজু বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রক্ষা করুন আমার সামনে থেকে, আমার পেছন থেকে, আমার ডান পাশ থেকে, আমার বাম পাশ থেকে এবং আমার ওপরের দিক থেকে। আর আমি আপনার মহত্ত্বের ওসিলায় আশ্রয় চাই যেন আমার নিচের দিক থেকে আমি ধসে না যাই (ভূমিধস বা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ থেকে)।" (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৪)
সাধারণ বিপদ ও বিপদের চরম মুহূর্তের জন্য জিকির
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে নিচের ইস্তিগফার ও দোয়াগুলো বারবার পড়া উচিত:
ইস্তিগফার পাঠ করা: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
(আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি)
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সার্বক্ষণিক ধারক, এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি।
দোয়া ইউনুস পাঠ করা: لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
(লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জ্বালিমিন)
অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি পাপিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহর স্মরণ (জিকির): ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার মুহূর্তে উচ্চস্বরে আল্লাহর কাছে তাওবা করা, "আল্লাহু আকবার" বা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" উচ্চারণ করে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
এই দোয়াগুলো পড়ে আপনি খুব সহজেই আল্লাহর কাছে সাহায্য যেতে পারেন। সাধারণত বিপদে চরম মুহূর্তের জন্য এই দোয়াগুলো ব্যবহার করার নির্দেশ অনেক হাদিস এবং দলিলের মধ্যে রয়েছে। সুতরাং আমাদেরকে যেকোনো ধরনের সাহায্য চাওয়ার জন্য আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের উসিলায় এবং আল্লাহর প্রিয় নবীর উছিলায় ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে।
ভূমিকম্পের আগাম বার্তা কিভাবে কাজ করে জানুন
ভূমিকম্পের আগামবার্তা সম্পর্কে একটু জেনে রাখা উচিত। এ বিষয়টি যেভাবে কাজ করে তা জানলে আপনি বুঝতে পারবেন। ঠিক কখন হবে তা নির্দিষ্ট করে আগে থেকে বলা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব হলেও, বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বা কয়েক সেকেন্ড আগে আগমন বার্তা বা সতর্ক ওয়ার্নিং পাওয়া সম্ভব।
ভূমিকম্প আগাম বার্তা কিভাবে কাজ করে, আপনি একটু অবাক হবেন। পি ওয়েব ও এস ওয়েব ভূমিকম্পের সময় মাটি কেপে ওঠার আগে দ্রুতগতিসম্পন্ন এক ধরনের প্রাথমিক তরঙ্গ যাকে পি ওয়েব বলে সেটা ছড়ায়। এবং কিছু সংকেত প্রেরণ হয় যার সেন্সর যখন দ্রুতগতির পি ওয়েব সনাক্ত করে তখন ক্ষতিকর এস ওয়েব পৌঁছানোর আগে মূল কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকায় অ্যালার্ট বা সতর্কতা পাঠিয়ে দেয়।
মোবাইলে যেভাবে আগমন বার্তা সতর্ক হওয়া যায়। আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড এলার্ট সিস্টেম স্মার্টফোনের এক্সেল এর ও মিটার ব্যবহার করেন তাহলে আশেপাশের ভূকম্পন মাপা সম্ভব। মৃদু কম্পনের জন্য b awave এবং তীব্র কোম্পানির জন্য পুরো স্কিন জুড়ে বিকট শব্দ take action সতর্কবার্তা আছে।
এছাড়া আরও একটি উপায় আছে এর জন্য মোবাইলের লোকেশন হিস্টোরি চালু রেখে Earthquake alerts বা Network এর মত বিভিন্ন অ্যাপস রয়েছে তাদের বিশ্বব্যাপী স্থায়ী ভূমিকম্পের লাইভ আপডেট ও নোটিফিকেশন দেয়। বিস্মিত অ্যাপস গুলোর প্লে স্টোরে লিংক রয়েছে আপনি চাইলে এখান থেকেও যেতে পারেন ইংরেজি শব্দ গুলোর উপর ক্লিক করুন লিংক গুলো পেতে।
লেখকদের শেষ মন্তব্য ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য অনুযায়ী
ভূমিকম্প থেকে সুরক্ষিত থাকার তথ্য আজকের আর্টিকেলটির মধ্যে যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। এ তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরশীল। তাই আপনি যদি ভূমিকম্প জড়িত কোন পরিবেশে পড়ে যান তাহলে কিভাবে নিজেকে এবং কাছের মানুষদেরকে রক্ষা করবেন সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই আপনি চাইলে এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে আপনার জীবন এবং আপনার আত্মীয়স্বজনকে ভূমিকম্পের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন। বর্তমান সময়ে কখন ভূমিকম্প আসে এই বিষয়ে নিশ্চিত বলা যায় না তাই এই বিষয়ে তথ্যগুলো আপনি নিজে এবং আপনার আত্মীয়দের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে তাদেরকে সচেতন করুন।



মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url