জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করা সঠিক নিয়ম ও করণীয় উপায় জানুন
আপনি কি জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম এবং জমি কেনার পর করণীয় উপায় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
এখানে উপস্থাপন করা হবে জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে করণীয় কাজের ধারাবাহিক বর্ণনা। যা থেকে আপনি খুব সহজেই জমি ক্রয়ের পূর্বে কি করতে হয় এবং পরে কি করতে হয় সে বিষয়গুলো জানতে পারবেন।
পোস্ট সুচিপত্রঃ জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করা সঠিক নিয়ম ও করণীয় উপায় জানুন
- ভূমিকা
- জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম জানুন
- আপনার জমির খতিয়ান আর পর্চা কিভাবে চেক করবেন সহজে দেখুন
- নামজারি বা মিউটেশন পর্চরা যাচাই না করলে কি সমস্যা হতে পারে জানুন
- খাজনার দাখিলা দেখে বুঝবেন জমির ট্যাক্স কত দিনের হালনাগাদ আছে
- রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলের আসল কপি যাচাই করার নিয়ম জানুন
- অনলাইনে eporcha.gov.bd থেকে জমি মালিকানা যাচাই করুন
- জমির ম্যাপ আর নকশা মিলিয়ে দেখার গুরুত্ব কেন
- জাল দলিল চিনবেন কিভাবে কয়েকটা সাধারন টিপস জানুন
- আইনজীবী বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া কেন জরুরী
- জমি কেনার পর করনীয় কাজ সম্পর্কে জানুন
- নামজারি করতে কি কাগজপত্র লাগে দেখুন
- নামজারি অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম জানুন
- শেষ কথা মন্তব্য
ভূমিকা
জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে আপনাকে অবশ্যই এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে মূল দলিল বা বায়া দলিল যাচাই, খতিয়ান বা রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখতে হবে, সাব রেজিস্ট্রেশন অফিসে খোঁজ নিতে হবে এবং সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
পাশাপাশি দলিল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই বাইনা বা বন্ধক আছে কিনা সে বিষয়গুলো জানতে হবে। আপনি ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা সম্পর্কে যে বিষয়গুলো রয়েছে তা জমির ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। শারীরিক উপস্থিতি থেক প্রয়োজনে জমির পরিমাণ একজন অভিজ্ঞ মানুষ দিয়ে বাস্তবে দেখে নিতে হবে। চলুন এবার বিস্তারিত জানি।
জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম জানুন
আপনি কি জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন? তাহলে জমি ক্রয়ের এর আগে দলিলসহ আসলে পুরো ব্যাপারটা কি এবং কি কি বিষয় জানা লাগবে তা পর্যায়ক্রমে দেখে নিন। জমি ক্রয়ের আগে যাচাই করা এই ব্যাপারটা গুরত্বপুর্ণ কাজ করে।
কারণ এটাই জমির মালিকানার একমাত্র লিখিত প্রমাণ যা অনেকেই জানেনা শুধু বিক্রেতার দেওয়া কাগজ দেখে খুশি হয়ে যান। আসল ব্যাপার হচ্ছে সঠিক নিয়ম না মানলে পরে বছরের পর বছর মামলায় ঘুরে টাকা ও শান্তি দুটোই হারাই। তাই সঠিক নিয়মে ধাপে ধাপে দেখুন, কিভাবে করলে আপনি খুব সহজেই সঠিক কাগজটি পাবেন।
- প্রথমেই বিক্রেতার কাছ থেকে অবশ্যই অরজিনাল রেজিস্ট্রেশন দলিল চেয়ে নিতে হবে। ছবিতে কখনো বিশ্বাস করবেন না, কারণ এতে ছলনা থাকতে পারে।
- দলিলের যে মূল মজার নাম, খতিয়ান নাম্বার, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, বিক্রেতার পুরো নাম ও ঠিকানা আর স্বাক্ষর সবকিছুই খুঁটিয়ে মিলিয়ে দেখতে হবে।
- পূর্ববর্তী মালিকদের সব দলিল (চেইন অফ টাইটেল) ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে যাতে বোঝা যায় জমিটা সত্যি বিক্রেতার কাছে এসেছে কিনা।
- এবং এই জমিটির সকল তথ্য ঠিক থাকলে আপনি সেই কাগজগুলো নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসে গিয়ে আরো নিশ্চিন্ত হতে হবে।
এভাবেই এরপর আরো কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আছে যেগুলো ছেড়ে দিলে চলবে না। কারণ জাল দলিলের ঘটনা তো আমাদের পরিচিত কারণ বর্তমান বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ জাল দলিল তৈরি করে। তাই আপনাকে ছাপ রেজিস্ট্রেশন অফিসে গিয়ে বালাম দলিলের এন্ট্রি, তারিখ, ভলিউম নাম্বার, সাকুর আর অফিসিয়ালশীল ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।
এবং দলিলের স্ট্যামেন মান, কাগজের গুণগত মান আর রেজিস্ট্রি ফি সব যাচাই করতে হবে। যদি উত্তরাধিকার সূত্রে দলিল হয় তবে হেবা উইল বা উত্তরাধিকার সার্টিফিকেট সহ সকল কাগজপত্র চেক করতে হবে। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ১০০% করে, আপনি জমি কেনা বেচা করলে অবশ্যই ঠকবেন না এবং ঝুঁকি কম থাকে।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো পোস্টের তালিকা
আপনার জমির খতিয়ান আর পর্চা কিভাবে চেক করবেন সহজে দেখুন
জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার নিয়ম যেমন গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ জমির খতিয়ান আর পর্চা চেক করা। খতিয়ানে আসলে সরকারি রেকর্ডে জমির মালিকানা, দাগ নম্বর, পরিমান এবং অন্যান্য বিবরণ লেখা থাকে। এবং বিক্রেতা যে পথটা দেখাচ্ছেন সেটা তার নাম স্পষ্ট ভাবে আছে কিনা, জমির পরিমাণ দলিলের সাথে মিলছে কিনা, আর জমিটা কোন সিরিজের খতিয়ান (আর এস এসএ বা আরএসবিএস) এসব ছোট্ট বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখতে হবে।
আর এগুলোতে অন্য নাম থাকলে আপনার বিপদ হতে পারে তাই সাবধানতার সাথে দেখতে হবে এবং সকল বিষয় ঠিক আছে কিনা তা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। এরপরে আপনি নিচের দেওয়া ওয়েবসাইটের ভিতরে প্রবেশ করবেন এবং স্ক্রিনশট দেওয়া উপায়ে কাজগুলো সম্পাদন করে চেক করে নিবেন।
আপনার যেগুলো ব্রাউজার থেকে e-porcha.com সাইডে প্রবেশ করে নিজের স্ক্রিনশট এর মত পেজ দেখতে পাবেন।
এবার সার্ভে খতিয়ান এ ক্লিক করে বিভাগ সিলেক্ট করতে হবে।
এরপর আপনার জেলা সিলেট করতে হবে
এরপর উপজেলা বা থানা নির্বাচন করতে হবে। যে যে থানা থেকে করবেন তাকে সেই থানা নির্বাচন করতে হবে।
এরপর আপনার সামনে আসবে খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করার অপশন। সেখানে আপনি নির্বাচন করবেন সিএস বা আর এস বা এস এ খতিয়ান।
এরপর মৌজা নম্বর দিতে হবে আপনি যেই মজাই বসবাস করেন বা যেটা বের করতে চাচ্ছেন সেটার মজা নাম্বার দিতে হবে। যেমন নিচে দেওয়া আছে।
এরপর খতিয়ানের তালিকা ঘরে জমির খতিয়ান নম্বর দিয়ে দিতে হবে নিচের যে ইন্টারফেস হয়েছে এরকম থাকবে। এবং জমির মালিকের নাম দেখাবে।
এরপরে খতিয়ান পাওয়া গেলে সেই নামের উপর ক্লিক করা মাত্রই নিচের মত একটা উইন্ডো আসবে সেখানে জমির পরিমাণ দাগ নম্বর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখাবে।
এবার বিস্তারিত এখানে এখানে ক্লিক করলে নিচের মতো আরও একটা উইন্ডো বা ইন্টারফেস আসবে। যেখান থেকে আপনি প্রিন্ট বা ক্লিক করে তথ্য গুলি খসড়া কপি করে নিতে পারবেন। এই প্রক্রিয়াতেই আপনাকে কাজগুলো সম্পাদন করতে হবে আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
উপরের সকল তথ্যগুলো সঠিকভাবে পূরণ করার পর আপনি এখানে নাম জমির বিস্তারিত বর্ণনা ও অন্যান্য তথ্য দেখে নিতে পারবেন। অনেক সময় এ তথ্যগুলো যদি আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হয় বা না পাওয়া যায়। সেই ক্ষেত্রে আপনি খুব সহজেই সরাসরি এসি ল্যান্ড অফিসে গিয়ে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করতে পারেন।
তবে প্রার্থনা অবস্থায় চেক করার জন্য অনলাইন উপায়টি অন্যতম এবং অফিশিয়াল ভাবে আপনি আরো সম্পূর্ণ ভাবে পুরোপুরি নির্ভর করা করার জন্য অফিস থেকে চেক করতে পারেন। তবে এখানে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে তৃতীয় শুধু বর্তমান খতিয়ান দেখলেই চলবে না।
আগের সব সিরিজের খতিয়ান মিলিয়ে দেখতে হবে যা থেকে বোঝা যাবে মালিকানা কিভাবে হাত বদল হয়েছে। এর ভিতরে কোন মিউটেশন হয়েছে কিনা মিউটেশন হলে জমি কেনার পর বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে তাই ধাপে ধাপে আরও সহজ উপায় গুলো দেখুন, যা আপনাকে নির্ভুল কাজ এবং তথ্য পেতে সাহায্য করবে।
নামজারি বা মিউটেশন পর্চরা যাচাই না করলে কি সমস্যা হতে পারে জানুন
নামজারি বা মিউটেশন পাঁচড়া যাচাই না করলে জমি কেনার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো হতে
পারে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকারি খাতায় নাম থাকবে না। তার নাম যদি
মিউটেশন না হয়ে থাকে তাহলে আপনি খাজনা দিতে গেলেও বিভিন্ন সমস্যাই পড়বেন এবং
বাতিল হয়ে যেতে পারে আপনার মালিকানা।
কারণ এখানে রেকর্ড এখনো পুরনো মালিকের নামই থাকবে এর ফলে জমির উপর আপনার আইন অধিকার প্রমাণ করতে গিয়ে বছরের পর বছর বিভিন্ন মামলায় পড়তে হবে। অনেকে এই ভুলটা করে যে পদের নামজারি করে নেব কিন্তু বাস্তবে বিক্রেতা যদি সহযোগিতা না করে বা অন্য কোন উত্তরাধিকারী দাবি করে বসে। সে ক্ষেত্রে জমিটা ঝুঁকি পড়তে পারে।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম আবেদন প্রক্রিয়া জানুন
তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত, আমি অনেকের কাছে শুনেছি একটা ভুলের কারণে লাখ লাখ টাকা দিয়ে যে জমি কিনে শেষ পর্যন্ত জমির মালিকানা পাওয়া যায় না। কাগজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে তাই বাস্তবে তা হয় না এছাড়া ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া জমি বিক্রি করা এমনকি কোন সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হয়ে থাকে।
এছাড়া যদি মিউটেশন না থাকে তাহলে জমিটা আপনি বিক্রি করতে গেলেও আপনার সম্ভব হবে না আবার আপনি যদি ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান ক্ষেত্রেও সম্ভব হবে না। তাই আবার বিক্রি করতে যাওয়া বা আপনি জমিটা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে চাইলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও পুরনো মামলা বা বকেয়া খাস না থাকে তাহলেও আপনার জমি সরকার নিলামে তুলে দিতে পারে। সঠিকভাবে যাচাই করুন এবং নিশ্চিন্তে থাকুন।
খাজনার দাখিলা দেখে বুঝবেন জমির ট্যাক্স কত দিনের হালনাগাদ আছে
জমি কেনার সময় খাজনার দলিল বা ট্যাক্সের রশিদ টা না দেখে কখনোই এগোবেন না। এই ট্যাক্স টোকেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটাই আসল জমির সবচেয়ে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট। এখানে দাখিলায় বিক্রেতার নাম জমির মৌজা, দাগ, খতিয়ান এর বিবরণ আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারিখ আর পরিমাণ দেখুন।
যদি এ রুম হয় যে দুই তিন বছর ধরে জমির খাস না দেওয়া হয়নি তাহলে বুঝে নিবেন যে জমিটাই বড় ধরনের ঝামেলা রয়েছে। এছাড়াও এই খাজনার দাখিলা থেকে বুঝতে পারবেন জমিটা থেকে কোন ব্যাংক লোন বা হাইপোথেড়েকেশন আওতায় আছে কিনা। ও বকেয়া ট্যাক্স আছে কিনা।
শুধু কাগজ চেক না করে জমি কিনলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তাই যদি খাজনা বকিয়া থাকে তাহলে সরকার চাইলে যেকোনো সময় জমিটা নিয়ে নামে তুলে দিতে পারে। আপনার কিছুই করার থাকবে না সুতরাং সকল বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে জেনে বাস্তবে দেখে তারপরে জমি বিক্রি বা কেনাবেচা করতে হবে।
আপনার একটি কাজ করা দরকার সেটা হচ্ছে দাখিলা নেওয়ার পর সরাসরি তহসিল অফিসে গিয়ে নিশ্চিন্ত করে নিতে হবে। যে এই জমিতে কোন ধরনের বকেয়া আছে কিনা। এই ছোট ধাপ গুলো মেনে চললেই আপনি বড় ধরনের লোকসান থেকে বেঁচে যাবেন এবং বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা বা নিশ্চিন্তে জমি কেনার জন্য নিজেকে স্থির করতে পারবেন।
রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলের আসল কপি যাচাই করার নিয়ম জানুন
আপনি যদি রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলের আসল কপি যাচাই করার নিয়ম জানতে চান সেই ক্ষেত্রে আপনাকে একটি কাজ করতে হবে। শুধু বিক্রেতার হাতে দেওয়া কাগজ দেখে সন্তুষ্ট হলে চলবে না সাব রেজিস্টার অফিসে সরাসরি গিয়ে যে বালাম বহিতে দলিলটা রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। সেটা চেক করতে হবে।
সেখানে আমি দেখতে পাবেন দলিল নাম্বার, রেজিস্ট্রির তারিখ, ভলিউম নাম্বার, পক্ষদ্বয়ের নাম ও স্বাক্ষর আছে কিনা। এবং কাগজের মান স্ট্যাম্পের সত্যতা আর অফিশিয়াল বিষয়গুলো সিল ও খেয়াল করতে হবে। এগুলো চেক করলে আপনি জাল দলিল ধরতে পারবেন, জমি কেনার আগে এগুলো যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অফিসে গিয়ে যদি দেখেন দলিলের এন্টি সঠিকভাবে নেই বা কোন অসঙ্গতি আছে তাহলে জমি কিনার দিকে না এগিয়ে আরো বিস্তারিত বিষয়গুলো জানুন। যেমন, বিশেষ করে দলিলটা অনেক পুরনো হয় তাহলে আগের মালিকদের যাচাই করা উচিত। কারণ আপনি অনেক কষ্ট করে আপনার অর্থ সঞ্চয় করে জমি কিনবে সেটা যদি ফলস বা ব্যর্থ হয় তাহলে অনেক কষ্টদায়ক।
অনলাইনে eporcha.gov.bd থেকে জমি মালিকানা যাচাই করুন
বর্তমান সময়ে আসল জমি দলিল যাচাই করার জন্য যে উপায় গুলো প্রয়োজন তা ইতিমধ্যে কিছু আলোচনা করেছি এবং এই পর্যায়ে আপনাদেরকে এই সহজ উপায়টি জানাবো যাতে আপনি খুব সহজেই নিজে নিজেই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেন। এখানে জমির মালিকানা যাচাই করা খুব সহজ তাই কারণ সরাসরি ওয়েবসাইটে গিয়ে eporcha.com খুলে মিনিটখানেক এর মধ্যেই আপনি তথ্যগুলো চলে আসবে।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম আবেদন প্রক্রিয়া জানুন
প্রথমে ব্রাউজারে সাইট ওপেন করুন তারপর খতিয়ান ও অনুসরণ করে অপশনে গিয়ে ক্লিক করুন, মজার নাম, খতিয়ান নম্বর দাগ নম্বর দিন। সিএসএসএ বা আরএস বা যে কোন সিরিজের খতিয়ান সার্চ করতে পারবেন। সার্চ করার পচটা পুরোপুরি দেখতে পারবেন বিক্রেতার নাম, জমির পরিমাণ বা কোন নোটিশ আছে কিনা।
আমিও নিজেও এইভাবে চেক করেছি আপনিও দেখতে পারেন, দেখেছি যে বিক্রেতা যা বলছি তার সাথে অনলাইন রেকর্ড মিলছে কিনা বা এই মিল আছে কিনা সহজে বোঝার জন্য এই উপায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাড়াতাড়ি সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং সঠিকভাবে যাচাই করুন। সবকিছু মিল থাকে তাহলে আপনি জমিটা নিঃসন্দেহে নিতে পারেন এবং কোন সমস্যা থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন এবং অবশ্যই জমিটা কেনা থেকে বিরত থাকুন।
জমির ম্যাপ আর নকশা মিলিয়ে দেখার গুরুত্ব কেন
জমি ম্যাপ বা নকশা মিলিয়ে দেখা জমি কেনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ কাগজ-কলমে যা লেখা থাকে বাস্তবে অনেক সময় তার মিল থাকে না। সুতরাং বিক্রেতা প্রায় দলিল বেশি পরিমাণ জমি দেখে কম জমি বুঝিয়ে দিলে আপনি বিবাদে পড়বেন। জমি কেনার আগে উপরের বিষয়গুলো ভালো করে যাচাই করতে হবে এবং দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়মের মাধ্যমে ম্যাপ ও নকশা যাচাই করতে হবে।
এসি ল্যান্ড অফিস থেকে মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করে সজমিনে গিয়ে পিলারম রাস্তা, খাল এবং আশেপাশে জমির সীমানা সবকিছু মিলিয়ে দেখতে হবে। আপনি যদি সকল কিছু ঠিক পান তাহলে অবশ্যই আসল অবস্থান ও পরিমাণের সঙ্গে মিলছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। সময় কাগজ এবং বাস্তবে সাথে মিল থাকে না এখানে অনেক ধরনের জটিলতা সম্মুখীন হতে হয়।
জাল দলিল চিনবেন কিভাবে কয়েকটা সাধারন টিপস জানুন
জাল দলিল চেনার জন্য কিছু অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ টিপস আছে যেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য প্রথমেই দলিলের কাগজের কোনো গত মান স্ট্যাম্পের রং, তারিখ এবং স্বাক্ষরের সত্যতা ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে, জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে এসব ছোটখাটো সমস্যা চোখে পড়ে যাবে।
এবং এরপর আপনাকে দেখতে হবে রেজিস্ট্রি তারিখ, সরকারি ছুটির দিনে কিনা, অফিসিয়াল ঠিক আছে কিনা, বিক্রেতার এনআইডি সাথে দলিলের নাম ও বানান মিলছে কিনা, আপনি গুরুত্বপূর্ণ হলো আগের মালিকানায় দলিলগুলো ক্লিন অফ টাইটেল না দেখে কখনোই শুধু শেষ দলিল দেখে বিশ্বাস করবেন না।
আইনজীবী বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া কেন জরুরী
নিজে যতই দেখুন না কেন অনেক সময় খুঁটিয়ে দলিল, খতিয়ান আর ম্যাপ বের করা নিজের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না দিলে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। কারণ তাদের চোখে এমন অনেক ছোটখাটো জটিলতা ধরা পড়ে তার সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।
সুতরাং আপনাকে কোন বিপদ ছাড়াই সঠিক জমি নির্বাচন করে কেনার জন্য অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে হবে। এমন কোনো মামলা লুকিয়ে আছে কিনা, জমির কোন ব্যাংকের লোনের আওতায় আছে কিনা, উত্তরাধিকারের মধ্যে কোন বিরোধ চলছে কিনা, বা দলিলের চেইন অব টাইটেল ঠিক আছে কিনা।
আমি অনেক সময় দেখেছি নিজে যে করে দেখে ঠিক মনে হয় কিন্তু বেশি সাক্ষ্য দিয়ে চেক করার উপর আরো কিছু সমস্যা বের হয়। তাই আপনি সবচাইতে সহজ এবং নিরাপত্তার সাথে জমি সম্পর্কে জানতে আইনজিবি দিয়ে যাচাই করাবেন এবং নিজেও যাচাই করবেন সকল বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে করার পরেই আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
জমি কেনার পর করনীয় কাজ সম্পর্কে জানুন
জমি কেনার পূর্বে যে কাজগুলো করতে হয় তার ধারাবাহিক একটি আলোচনা উপরে উপস্থাপন করেছি। তবে এখন বিষয় হচ্ছে জমি রেজিস্ট্রি করার পর প্রথম এবং প্রধান কাজ হল অভিজ্ঞ আমিন দিয়ে জমি মেপে দেখুন এবং দখল নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নামজারি খারিজ করুন।
- জমি পরিমাণও দলিল বুঝে নেন, রেজিস্টার সম্পন্ন হওয়ার পর একজন দক্ষ আমিন দিয়ে সম্পন্ন ম্যাপ বুঝে নিন। মাপঝোপের সময় বিক্রেতা ও স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যাক্তিদের উপস্থিত রাখা ভালো।
- জমি তো তখন প্রতিষ্ঠা ও সাইনবোর্ড দেওয়া দরকার যা পাকাপোক্ত করতে এবং বিভিন্ন মানুষের জানানোর ক্ষেত্রেও কাজে আসে।
- নামধারী বা খারিজ মূল দলিল হাতে পাওয়ার পর অনলাইন কপির মাধ্যমে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে নাম জারির জন্য আবেদন করুন এবং খারিজ করেন।
- খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদ করুন এবং ডিসিআর সংগ্রহ করে রাখুন নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিষদ করুন।
জমি ক্রয়ের পর প্রয়োজনে পদক্ষেপ গুলো এবং নামজারি করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয়গুলো সম্পর্কে উপরে উপস্থাপন করা হয়েছে যা আপনি যদি এই পোস্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই বুঝতে যে কিভাবে সকল কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
নামজারি করতে কি কাগজপত্র লাগে দেখুন
নামজারি করতে যে বিষয়গুলো আপনার প্রয়োজন সে বিষয়গুলো সম্পর্কে এক নজরে দেখে নিন। প্রয়োজনীয় কাজ পত্রের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা ২০২৪ সালের ১১ই অক্টোবরের ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে।
- অনলাইনে নাম জারিকরতে প্রয়োজনে কাগজপত্র
- আবেদনকারী ছবি ও স্বাক্ষর
- জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি কার্ড
- মূল ক্রয় দলিল এটা না থাকলে দলিলের সার্টিফাইড নকল কপি
- তিন দলিল বাবা দলিল সংগ্রহ করতে হবে।
- সর্বশেষ রেকর্ড ভূমি খতিয়ান কি ধরনের সার তা জানতে হবে।
- ভূমি উন্নয়ন করবা খাজনা পরিষদ আছে কিনা জানতে হবে সেই রশিদ গলো সংগ্রহ করতে হবে।
- ওয়ারিশ সনদপত্র থাকলে তিন মাসের বেশি পুরনো হলে চলবে না তার আগের গুলো সংগ্রহ করতে হবে।
আদালতের ডিগ্রি বা রায় সংগ্রহ ও যদি জমিটি কোন মামলার থাকে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। কিন্তু বিষয়গুলো জানার পাশাপাশি আপনি যদি অনলাইনে আবেদন করতে চান তাহলে যে বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে তা নিচে উপস্থাপন করা হলো আপনি সহজেই প্রক্রিয়াটি নিজে নিজেই করতে পারেন।
নামজারি অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম জানুন
বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি নিজেই ঘরে বসে এই নামজারির আবেদনটি করতে পারেন এর জন্য আপনাকে প্রথমে যেই ওয়েবসাইটের ভিতরে প্রবেশ করতে হবে এবং কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে পর্যায়ক্রমে দেখে নিন।
- প্রথম ওয়েব সাইটে প্রবেশ করতে হবে ভূমি মন্ত্রণালয় অফিসার এই নামধারী প্রোডাক্ট ওয়েবসাইট এর লিঙ্ক mutation.land.gov.bd প্রবেশ করতে হয়।
- এরপর আপনার যে আবেদন ফ্রম আসবে সামনে এবং বাটনের চাপ দিয়ে জমির বিবরণ খতিয়ান নাম্বার দাগ নাম্বার এবং নম্বর সঠিকভাবে লিখুন।
- দলিলও তথ্য আপলোড করার জন্য আবেদনকারী এবং দাতার নাম মোবাইল নম্বর এনআইডি কার্ড নম্বর এবং প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রের স্ক্যান কপি দিন।
- প্রাথমিক কি পরিশোধ করার জন্য আপনার খরচ হবে ১১০ টাকা এবং এই নোটিশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।
- প্র্যাংকিং নাম্বার সংগ্রহ করতে হবে যাতে ফ্রী পরিশোধ সফল হলে একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা ট্র্যাংকিং নাম্বার পাবেন। এটি দিয়ে পরবর্তীতে আবেদনের অবস্থা যাচাই করা যায়।
চূড়ান্ত ফি বা খতিয়ান ডিসিআর ফ্রি বাবদ ১১০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করার পর নতুন এই খতিয়ান ইস্যু করা হয়। সুতরাং আপনি কি অনলাইনে আবেদন করতে চান তাহলে উপরের প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করে খুব সহজেই করে নিতে পারেন। সংগ্রহ হলে আপনি খুব সহজেই আপনার কাজগুলো সম্পাদন করতে পারবেন।
শেষ কথা মন্তব্য
জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি। এবং আরো জেনেছি কিভাবে খতিয়ান বা বিভিন্ন বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন ভাবে জমি কেনা যায়। অনেকেই বিভিন্ন সময় জমি কেনার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাই।
যেমন জমির হিসাব, জমি মাপার সূত্র, তুমি রেজিস্ট্রেশন খরচ কত, দলিল যার জমি তার রেজিস্ট্রেশন খরচ এই ধরনের প্রশ্ন। তাই তাদের জন্য আজকের এই পোষ্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপনি যদি সম্পূর্ণ পোস্টটি পর্যন্ত পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি বিস্তারিত বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছেন।


.webp)
.webp)
.webp)
.webp)
.webp)
.webp)
.webp)
.webp)



মুক্তআঁখি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url